শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীর এগিয়ে থাকা ও জামায়াতের ভোট বর্জনের দাবি
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুর রহমান এগিয়ে আছেন। মোট ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্রের গণনায় তিনি ৯ হাজার ৮৮ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮১ ভোট এবং বাসদের মিজানুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৪৬টি ভোট।
জামায়াতের ভোট বর্জন ও পূর্বপরিকল্পিত হওয়ার অভিযোগ
বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক দাবি করেছেন যে নির্বাচনে জামায়াতের ভোট বর্জন পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তিনি বলেন, “নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে দুপুরের পর থেকেই জামায়াত প্রার্থী তাঁদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে তারা কেন্দ্র ত্যাগ করেন। পরে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।”
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
জামায়াতের প্রার্থীর ভোট বর্জন ও নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা
এর আগে, বেলা পৌনে ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন:
- ভোটারদের সিল দিতে বাধ্য করা
- বুথ দখল করা
- এজেন্টদের বের করে দেওয়া
- হামলার ঘটনা ঘটানো
তিনি আরও জানান যে হামলার ঘটনায় জামায়াতের এক নেতা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাল ভোট ও হামলার ঘটনার পাল্টা বক্তব্য
জাল ভোটের অভিযোগ ও জামায়াতের এক কর্মী আহত হওয়ার বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক বলেন, “ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করতে গিয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন, সেখানেই আহত হন।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করে জামায়াত অংশগ্রহণ করে।
নির্বাচনী দিনে ভোটদানের পর অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে কেন্দ্রের বাইরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়েছে, যা মানবিক দিকটি তুলে ধরেছে।



