শেরপুর-৩ আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে, নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি
শেরপুর-৩ আসনে উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ, নারী ভোটারদের আধিক্য

শেরপুর-৩ আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে, যেখানে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দীর্ঘদিন পর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরে তারা আনন্দিত ও উদ্দীপ্ত।

প্রার্থী ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা

শেরপুর-৩ আসনের এই নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কাঁচি) তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রগুলোতে সমবেত হচ্ছেন।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোটার সংখ্যা ও কেন্দ্রের তথ্য

জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। দুটি উপজেলায় ১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়াও, হিজড়া ভোটার রয়েছেন সাত জন। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গারো পাহাড়ি এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন, যা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলেছে।