শেরপুর-৩ আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া সাধারণ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে এই ভোটগ্রহণ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির দুই প্রধান পক্ষ বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে 'সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং' ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে বলে জোরালো দাবি করেছেন। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সকালে তাতি হাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদানের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে, তাঁর সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব ও নেপথ্যে সুক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিএনপি প্রার্থীর জবাব
রূপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল জামায়াত প্রার্থীর সব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
মাহমুদুল হক রুবেল আরও অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নির্বাচনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তিনি সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জোরালো অনুরোধ করেন।
নির্বাচনী এলাকার বিস্তারিত তথ্য
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটারের বিপরীতে এই আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৮টি কেন্দ্রকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচনের প্রাথমিক অবস্থা
নির্বাচনের প্রথম আড়াই ঘণ্টায় বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিতে সাধারণ ভোটাররা ধৈর্য্যের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলছে এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ উৎসাহব্যঞ্জক বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



