বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু
বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
বগুড়া-৬ আসনের পটভূমি
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি একই সাথে ঢাকা-১৭ আসনেও জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বগুড়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম (বাদশা) ধানের শীষ প্রতীকে, জামায়াতের আবিদুর রহমান (সোহেল) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার ফুলকপি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ধান শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এই আসনে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। উপনির্বাচনে জামায়াত নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করেছে। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল) এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মিজানুর রহমান কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
শ্রীবরদী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন। দুই উপজেলায় মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
ভোটগ্রহণের প্রাথমিক চিত্র
সকালে শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটাররা ধীরে ধীরে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন। তাতিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাস জানান, এই কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৭৮১ জন ভোটার রয়েছেন। ৯টি বুথে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সকালে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উভয় আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



