পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন: ২৭ লাখ ভোটার বাদ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে চূড়ান্ত সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ২৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি অনুযায়ী, এই ভোটাররা ভোটার হওয়ার যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে পারেননি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও ভোটারদের ভাগ্য
সোমবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন দপ্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল ১২তম সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিবেচনাধীন ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাদ পড়া এই ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট, যদিও তাদের জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে সাবেক বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ১৯টি ট্রাইব্যুনালে অনলাইন ও অফলাইনে আপিল করা যাবে। তবে সম্ভাবনা কম যে তারা ২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচনের সময়সূচি ও পূর্ববর্তী তালিকা সংশোধন
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার ২৯৪ আসনের নির্বাচন আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। গত ২০২১ সালের নির্বাচন আট দফায় হয়েছিল। নির্বাচন সামনে রেখে, নির্বাচন কমিশন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে মৃত, স্থানান্তরিত এবং দুই জায়গায় ভোটার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, ভোটারদের তথ্যে অসংগতি ও ত্রুটির কারণে আরও ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বিবেচনায় রেখে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
শুনানি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই শুনানিতে ওডিশা, ঝাড়খণ্ড ও উত্তর প্রদেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি যাচাই-বাছাই করেন, যা ১২টি অতিরিক্ত সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিকে নিয়ে যায়। তবে, এই ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে সশরীর দাঁড়িয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, এবং তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তুলেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইভিএম নিয়ে নতুন বিতর্ক
এদিকে, ভোটার তালিকার পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইলেকট্রনিক ভোটার মেশিন (ইভিএম) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার বহরমপুরে তৃণমূল আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি দাবি করেছেন যে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ভোটবাক্সে কারচুপি করার জন্য ইভিএমে চিপ ঢুকিয়ে ফন্দিফিকির করতে পারে। তিনি দলীয় কর্মীদের ইভিএমের ওপর কড়া নজরদারি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ভালো করে পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
এই পরিপ্রেক্ষিতে, রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন যে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় বুঝতে পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করেছেন। এই বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা জোরদার করেছে।



