বগুড়া-৬ সংসদীয় উপনির্বাচনে প্রচারণা শেষ, নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা জারি
বগুড়া-৬ (সদর) সংসদীয় উপনির্বাচনের প্রচারণা মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখন থেকে সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত
বগুড়া জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার ফজলুল করিম জারি করা একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ৭ এপ্রিল সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ১১ এপ্রিল বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের সমাবেশ, মিছিল ও জনসভা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ভোটগ্রহণের দিনসহ তার আগের ও পরের দিনগুলোতেও কার্যকর থাকবে, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে এবং কোনো অনিয়ম না ঘটে।
প্রার্থী ও প্রতীক
এই উপনির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। একাদশ দলীয় জোটের সমর্থনপুষ্ট জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার ফুলকপি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ও সময়সূচি
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। এই নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। বগুড়া-৬ আসনটি সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এবং এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫৪,০৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২,৩১,২৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ২,২২,৭৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। ভোটগ্রহণ হবে ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে।
আসন শূন্য হওয়ার কারণ
এই সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়েছে কারণ তারিক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ উভয় আসনেই জয়লাভ করলেও তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনী নিয়ম লঙ্ঘন রোধ করতে মোবাইল কোর্ট ও পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা না আসে তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত তদারকিতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটারদের নির্বাচনী দিনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।



