শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচার শেষ হচ্ছে আগামীকাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচার আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারকাজ ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সমাপ্তির বিধান অনুসারে বন্ধ করা হচ্ছে। সোমবার জেলা রিটার্নিং ও নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্বাচনে ২১ জন নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের তত্ত্বাবধানে এবং ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে ১৬ প্লাটুন সদস্য চারটি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এই ব্যবস্থা নির্বাচনী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন সাতজন।
আগামী ৯ এপ্রিল ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি কক্ষে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
প্রার্থীদের তালিকা ও নির্বাচনের পটভূমি
এই আসনে মোট চারজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের নির্ধারিত তফসিলে শেরপুর-৩ আসনেও ভোটগ্রহণের কথা ছিল। তবে প্রচার চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করলে নির্বাচন কমিশন এই আসনের ভোট স্থগিত করে। পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করে ইসি, যা অনুসারে এখন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকল ভোটার যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ চলছে।



