বান্দরবানের লীনা: সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচিত নেত্রীর রাজনৈতিক যাত্রা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন বান্দরবানের উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জুড়ে এই আসন নিয়ে চলমান বিতর্কে স্থানীয়দের দৃষ্টিতে লীনা শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছেন।
পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের চাহিদা
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য তিনটি সাধারণ আসনের মধ্যে বর্তমানে দুইটির প্রতিনিধি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের। এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন দক্ষ, মেধাবী ও দৃঢ়চেতা নেত্রীর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রকট।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে বান্দরবান থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে কোনও প্রতিনিধি দেখা যায়নি। সাধারণ জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা, এবার তারা এই নারী নেত্রী লীনাকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখতে পাবেন।
দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম
প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় লীনা বান্দরবান জেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
বিগত সরকারের আমলে এই নেত্রী ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। তবুও তিনি দলের সকল সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচির সামনের সারিতে থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
নির্বাচনী সাফল্য ও সামাজিক কাজ
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে লীনা দলের উচ্চ কমান্ডের আস্থা অর্জন করেছিলেন। এর আগে ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জনগণের বিপুল সাড়া পেয়েছিলেন।
রাজনীতির বাইরেও লীনা বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তিনি বান্দরবান উইমেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং এফবিসিসিআই-এর সাধারণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য
লীনা একাই রাজনীতি করেন না। তার স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমও একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণও করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের কঠিন দুঃসময়েও লীনা ও তার পরিবার রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। জনস্বার্থে কাজ করার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ আশাবাদী যে দল তাকেই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সুযোগ দেবেন।
লীনার প্রতিশ্রুতি ও ভিশন
উম্মে কুলসুম লীনা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "আমি পার্বত্য জনপদের অবহেলিত পাহাড়ি-বাঙালি সকল নারীদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ পেলে পাহাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষা, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি, নারী উন্নয়ন ও এলাকার অগ্রগতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাব।"
তিন পার্বত্য জেলার রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা শুধু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লীনার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কাজ এই দায়িত্ব পালনে তাকে বিশেষভাবে যোগ্য করে তুলেছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মত প্রকাশ করেছেন।



