পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে মোদির হুঁশিয়ারি: তৃণমূলের 'পাপের' জন্য জবাবদিহি চান
মোদির হুঁশিয়ারি: তৃণমূলের 'পাপের' জন্য জবাবদিহি চান

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে মোদির তীব্র হুঁশিয়ারি: তৃণমূলের 'পাপের' জন্য জবাবদিহি চান

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তাদের 'পাপের' জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার (৫ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার রাস ময়দানে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মোদির তীব্র অভিযোগ: রাজ্যে 'জঙ্গলরাজ' প্রতিষ্ঠিত

নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে রাজ্যে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, তোলাবাজি ও 'জঙ্গলরাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষায়, 'তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়।' মালদায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রমাণ।

মোদির মতে, যেখানে বিচারকরা নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাংবিধানিক সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে তৃণমূল সরকার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোটারদের উদ্দেশ্যে মোদির বার্তা: আইনের ওপর আস্থা রাখুন

জনসভায় উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভোটের দিন ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আইনের ওপর আস্থা রাখতে হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মোদি বলেন, '৪ মে'র পর আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। যত বড়ই অপরাধী হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।' তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে 'ডাবল ইঞ্জিন সরকার' প্রতিষ্ঠিত হবে, যা রাজ্যের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার পর এটিই ছিল পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির প্রথম বড় নির্বাচনী জনসভা, যা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই জনসভায় মোদির বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো মোদির এই অভিযোগগুলোর উপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হুঁশিয়ারি আগামী দিনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।