কলকাতায় ভোটার তালিকা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল জ্বালানো ও মারপিটের ঘটনা
কলকাতায় ভোটার তালিকা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ

কলকাতায় ভোটার তালিকা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল জ্বালানো ও মারপিটের ঘটনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়কে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিবাদীবাগে অবস্থিত রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরের সামনে এই সংঘর্ষ বাধে, যা স্থানীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সংঘর্ষের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরের সামনে বেশ কিছুদিন ধরেই ‘ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআরের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার সকালে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বিজেপির সমর্থকেরা ৬ নম্বর ফরম জমা দিতে এলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এই উত্তেজনা সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নামে ভিনরাজ্যের মানুষের নাম নথিভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস যখন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়, তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে, যা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি

সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‍্যাফ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে, তবে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এই সংঘর্ষটি কলকাতায় রাজনৈতিক সহিংসতার একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।