৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ ছুটি ঘোষণার অনুরোধ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ৯ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই চিঠি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
ছুটি ঘোষণার কারণ ও প্রক্রিয়া
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বগুড়া-৬ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন এবং শেরপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনি এলাকার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব স্ব ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি
বগুড়া-৬ সংসদীয় আসনের রিটার্নিং অফিসার মো. ফজলুল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই আসনের উপ-নির্বাচনে মোট তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. আবিদুর রহমান নির্বাচন করছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির একজন প্রার্থী ফুলকপি প্রতীক নিয়ে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
মো. ফজলুল করিম উল্লেখ করেছেন যে, এ আসনে নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে খুবই শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জয়লাভ করেছিলেন। তবে সংসদে একই সঙ্গে দুটি আসনের সদস্য থাকার বিধান না থাকায়, তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। এরপর ইসি এই আসনটিকে শূন্য ঘোষণা করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করে।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই আসনের সাধারণ নির্বাচনে মোট তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল ধানের শীষ প্রতীক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) একজন প্রার্থী কাঁচি প্রতীক নিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়, যা ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
এই দুই আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সাধারণ ছুটির এই অনুরোধটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটাররা যাতে বিনা বাধায় তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



