বিএনপি নেতার তীব্র অভিযোগ: নির্বাচনে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ (রুমী) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পরাজয়ের জন্য জেলা প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক বদলির কারণ ব্যাখ্যা
সৈয়দ মেহেদী আহমেদ তার বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভমেন্ট (সরকার) আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’ তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে গাদ্দারি করেছে, যা তাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ
মেহেদী আহমেদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক, কুমারখালী প্রশাসন এবং খোকসা প্রশাসন সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তার মতে, এই অনিয়ম না হলে তিনি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারতেন।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার দাবি
৭৩ বছর বয়সী এই বিএনপি নেতা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নামে, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এ রকম বহু লোকরে চিনি আমরা। আমাদের জন্ম এই কুষ্টিয়া শহরে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখানে আছেন এমন অনেকেরই জন্ম হয়নি।’ এই মন্তব্যে স্থানীয় পর্যায়ে তার প্রভাব ও অভিজ্ঞতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হাইকোর্টে মামলা ও ভোট পুনর্গণনার আশা
নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ হাইকোর্টে মামলা করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট অ্যাকসেপ্ট করেছেন। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হব।’ এই মামলার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে চান বলে মনে করা হচ্ছে। তার এই আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের উপস্থিতি
এই আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, যদিও মেহেদী আহমেদের বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা ধরা পড়েছে।
সামগ্রিকভাবে, সৈয়দ মেহেদী আহমেদের এই অভিযোগ নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করছে।



