পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী জোট: হুমায়ুন কবীর ও আসাদউদ্দিন ওয়েইসির যৌথ সংবাদ সম্মেলন
পশ্চিমবঙ্গে হুমায়ুন-ওয়েইসি জোট, নির্বাচনে একজোট

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনে হুমায়ুন কবীর ও আসাদউদ্দিন ওয়েইসির যৌথ সংবাদ সম্মেলন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। মুর্শিদাবাদের সাবেক তৃণমূল নেতা ও বাবরি মসজিদ গড়ার প্রধান উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর এবং সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি একজোট হয়ে কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে গতকাল বুধবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

জোট গঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি

সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং এআইএমআইএম একজোট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যে গঠিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টি রোববার রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৫৪টি আসনে প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে। হুমায়ুন নিজে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা আসনে লড়ছেন, পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর আসনেও প্রার্থী দিয়েছেন।

হুমায়ুন কবীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমাদের জোট প্রার্থীদের নামের তালিকা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। বাকি আসনের মধ্যে এআইএমআইএম কতটি আসনে প্রার্থী দেবে বা আমার সঙ্গে কতটি আসনে একজোট হয়ে লড়বে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা আসন নিয়ে প্রায় সমঝোতায় পৌঁছে গেছি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক লক্ষ্য ও মুসলিম নেতৃত্ব

আসাদউদ্দিন ওয়েইসি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গ বা দেশের যেকোনো জায়গায় মুসলিম সংখ্যালঘু নেতা তৈরি না হলে মুসলিম নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। আমরা মনে করি, এই নয়া জোট এই রাজ্যে মুসলিম নেতৃত্ব গড়ার নেতা তৈরি করতে পারবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সমাজের অবস্থা ভালো নয় এবং তাদের শোষণ বন্ধ করতে এই জোট গঠন করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওয়েইসি বলেন, 'আমরা এখানে বেশি আসন চাই না, বরং আমাদের সঙ্গীকে সঙ্গ দিতে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য এই রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজের উন্নয়ন করা।' হুমায়ুন কবীরও ওয়েইসিকে 'বড় ভাই' বলে সম্বোধন করে জোর গলায় বলেন যে, তাদের এই জোট আটকানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তারা দুই দল এক হয়ে লড়বেন।

জনসভা ও প্রতিক্রিয়া

হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন যে, তারা ওয়েইসিকে নিয়ে রাজ্যে ২০টি জনসভা করবেন, যা মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু হবে। প্রথম জনসভা ১ এপ্রিল বহরমপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং শেষ সভা হবে কলকাতায়। সংবাদ সম্মেলনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নির্বাচনী প্রতীক বাঁশির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করা হয়।

এই জোট গঠনের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, 'বিজেপির এজেন্ট মীর জাফররা বিজেপির ভাষা ও চিত্রনাট্য অনুযায়ী কথা বলবেন, এটাই স্বাভাবিক। এই এআইএমআইএম বিহার ও মহারাষ্ট্রে ভোট কেটে বিজেপিকে জিতিয়ে দিয়েছিল।' অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, 'হুমায়ুনই তৃণমূল, আর তৃণমূলই হুমায়ুন। হুমায়ুনকে উপমুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে তৃণমূল বাঁচার চেষ্টা করছে।'

এই যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।