হাইকোর্টে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নয় আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জের আবেদন গ্রহণ
হাইকোর্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়টি সংসদীয় আসনের ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নয়জন প্রার্থীর পৃথক নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এই আবেদনগুলোর শুনানি হবে বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি হয়েছে, যা নির্বাচনী আইনগত প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আবেদনকারী প্রার্থী ও আসনসমূহ
আবেদনকারী নয় প্রার্থীর মধ্যে চারজন বিএনপির এবং পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর সদস্য। তাঁরা যে নয়টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেগুলো হলো: খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঢাকা-১১, পিরোজপুর-২, মাদারীপুর-১, নীলফামারী-২, কক্সবাজার-৪, ঢাকা-১০ ও চুয়াডাঙ্গা-১। এই নয়টি আসনের মধ্যে আটটিতে ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যদিকে একটি আসনে (চুয়াডাঙ্গা-১) বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল
বিএনপির চারজন প্রার্থী যারা আবেদন করেছেন, তাঁরা হলেন:
- ঢাকা-১১ আসনে এম এ কাইয়ুম, যিনি ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, যিনি ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন।
- চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মো. শরীফুজ্জামান, যিনি ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়েছেন। এখানে জয়ী হওয়া জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদ পারভেজ পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৪১ ভোট।
- মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা আক্তার, যিনি ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে জয়ী হওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট।
- নীলফামারী-২ আসনে শাহরিন ইসলাম, যিনি ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়েছেন। এখানে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের আলফারুক আব্দুল লতীফ।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল
জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন প্রার্থী যারা আবেদন করেছেন, তাঁরা হলেন:
- খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, যিনি ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
- বরগুনা-২ আসনে সুলতান আহমদ, যিনি ৮৩ হাজার ১৫ ভোট পেয়েছেন। এখানে ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মো. নূরুল ইসলাম।
- পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদী, যিনি ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়েছেন। এখানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির আহম্মদ সোহেল মনজুর, যিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট।
- ঢাকা-১০ আসনে মো. জসীম উদ্দীন সরকার, যিনি ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির শেখ রবিউল আলম।
- কক্সবাজার-৪ আসনে নুর আহমদ আনোয়ারী, যিনি ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে জয়ী হওয়া বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট।
আইনগত প্রক্রিয়া ও শুনানি
নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ ও শুনানির জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। ওই একক বেঞ্চের গতকালের কার্যতালিকায় নয়টি নির্বাচনী আবেদন মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। শুনানিতে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়, আইনজীবী আকতানুর নাহার প্রমুখ। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পক্ষে গতকাল শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও এম বেলায়েত হোসেন।
নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। এ নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩৬ জন প্রার্থীর পৃথক ৩৬টি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
