ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের মামলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলীয় প্রার্থীরা আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম নির্বাচনি আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দাখিল করার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করেন। তার এই আবেদন হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে, যা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে।
আরও ছয় প্রার্থীর মামলা দায়ের
এম এ কাইয়ুম ছাড়াও একই দিনে বিএনপি ও জামায়াতের আরও ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- খুলনা-৫ আসনের মিয়া গোলাম পরওয়ার
- বরগুনা-২ আসনের ডা. সুলতান আহমেদ
- পিরোজপুর-২ আসনের শামীম সাঈদী
- চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের শরিফুজ্জামান শরীফ
- মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার
- নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম
এই মামলাগুলো বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাকির হোসেনের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পূর্ববর্তী মামলার ধারাবাহিকতা
এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিএনপির চারজন প্রার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাদের তালিকায় রয়েছেন:
- গাইবান্ধা-৫ আসনের ফারুক আলম সরকার
- ঢাকা-৫ আসনের নবী উল্লাহ নবী
- পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন
- কুষ্টিয়া-৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক প্রার্থী, যা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৪৯ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হলে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীর হাইকোর্টে আবেদন করার আইনি বিধান রয়েছে। এসব আবেদন শুনানির জন্য গঠিত বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে বর্তমানে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। এই নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ফলাফলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
এই মামলাগুলো নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এর ফলাফল দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যত গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
