বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে গণভোট নেই, নির্বাচন ৯ এপ্রিল
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে গণভোট থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান। আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গণভোটের বিষয়ে স্পষ্টতা
আখতার আহমেদ বলেন, "বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের বিষয়টি আসবে না। বগুড়ার কনস্টিটিয়েন্সিতে গণভোট নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেরপুরের ক্ষেত্রে যে গণভোটের ভোট রয়েছে, সেটি আপনার নির্বাচনের গণভোটের ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারবে না। তাই আমরা সেখানে গণভোট রাখছি না। সরাসরি নির্বাচনের দিকেই যাচ্ছি।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিস্তারিত মোতায়েন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, "এবারও আট দিনের জন্য আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী তাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মাঠে থাকছে। ইতোমধ্যে মাঠে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের কাজ শুরু। এখন পর্যন্ত কোনও আপত্তিকর তথ্য পাইনি।"
নির্বাচনী প্রস্তুতির অগ্রগতি
নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে:
- বাড়তি রিসোর্সের সমন্বয় করা হবে।
- রিটার্নিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল প্রয়োজন মনে করলে বডি-ওর্ণ ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানো হবে।
- কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে পর্যালোচনা বা তদন্তের প্রয়োজন হলে তা করা যায়।
প্রার্থী ও ভোট প্রক্রিয়া
আখতার আহমেদ জানান, যাদের প্রার্থিতা বা মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের কোনও আপিল পাওয়া যায়নি। তাই কোন আসনে কতজন প্রার্থী রয়েছেন, সে বিষয়টি প্রত্যাহারের পর স্পষ্ট হবে। পোস্টাল ব্যালটের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
- প্রবাসীদের ভোট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ওসিভি এবং আইসিভি দু’টোরই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- প্রবাসীদের ওসিভি ব্যালট ১২ মার্চ থেকে পাঠানো শুরু হবে।
- আইসিভি ভোট ২৩ ও ২৪ মার্চ থেকে শুরু করা হবে।
ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা
ফলাফল প্রকাশ নিয়ে ইসি সচিব বলেন, রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আগের মতোই থাকবে। তবে এবার আসনের সংখ্যা মাত্র দু’টি। একটি কনস্টিটিয়েন্সিতে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০, আরেকটিতে কিছু কম। তাই ফলাফল প্রকাশে দেরি হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "এবার যেহেতু গণভোটের বিষয়টি নেই, কিন্তু পোস্টাল ভোট রয়েছে, তাই পোস্টাল ভোট যত দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে, তত দ্রুত ফলাফলও প্রকাশ করা সম্ভব হবে।"
নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণায় বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোটাররা সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
