নাটোরে নির্বাচনী প্রতিহিংসার অভিযোগে কলাবাগান ধ্বংস
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর কলাবাগানে ১৫২টি কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিজয়পুর গ্রামে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম (৫৫) এক বছর আগে কলাবাগান তৈরি করেন। এ বছর বাগানের প্রায় সব গাছে ফল আসতে শুরু করেছিল। আজ সকালে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেন, জহুরুল ইসলাম, মো. রান্টু ও আরও দুই যুবক হাঁসুয়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাগানে প্রবেশ করে। তারা প্রকাশ্যে ১৫২টি কলাগাছ কেটে ফেলে। নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বাধা দিলে তাঁদের মারধর করা হয়। পরে তাঁরা লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
নির্বাচনী প্রতিহিংসার অভিযোগ
নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমি বিজয়পুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। গত জাতীয় নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলামের কর্মী হিসেবে কাজ করি। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে আমার প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর থেকে তারা আমার জানমালের হুমকি দিতে থাকে। হঠাৎ আজ সকালে সন্ত্রাসী ভাড়া করে তারা আমার দেড় শত কলাগাছ কেটে ফেলেছে। এতে আমার অন্তত ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।'
অভিযোগ অস্বীকার
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন এ ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, 'অভিযোগকারীর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। কলাগাছ লাগিয়ে জমি দখল করায় জমির প্রকৃত মালিকেরা জমির দখল নিয়েছেন।'
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, 'কলাগাছ কাটার অভিযোগ আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। অভিযোগ আমার হাতে এলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেকে।



