বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন দাখিলকালে নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাগ্বিতণ্ডা
বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার দলীয় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে আলাদা আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের দুজন প্রার্থী।
মনোনয়ন দাখিলকালে বিএনপি নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
হাতাহাতির বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার বলেন, “মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জ্যেষ্ঠ নেতাদের বদলে কনিষ্ঠ নেতারা সামনে আসার জন্য হুড়োহুড়ি করছিলেন। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে, কোনো হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি।”
এ বিষয়ে শেখ তাহাউদ্দিন বলেন, “আলী আজগর তালুকদার সিনিয়র নেতা, আমার বড় ভাই। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীর সঙ্গে দাঁড়ানো নিয়ে তাঁর সঙ্গে একটু তর্কবিতর্ক এবং ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীর সঙ্গে সাধারণত সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক বা অনুসারী উপস্থিত থাকতে পারেন। এ সময় কোনো শোডাউন বা জনসমাগম হওয়া যাবে না। অথচ বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বহু নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন, যা আইন লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে।
জামায়াতের প্রার্থীও দলবেঁধে মনোনয়ন দাখিল
বেলা দুইটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুর করিমের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য এবং সংগঠনের বগুড়া শহর শাখার আমির। তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও গণপ্রতিনিধিত্ব আইন মানা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এ বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ না মানা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আবদুল মালেক বলেন, “গণপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পাঁচজন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কয়েকজন নেতা বেশি ছিলেন।”
উপনির্বাচনের সময়সূচি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ৬ মার্চ থেকে শুরু করে আপিল চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১১ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ১৪ মার্চ ও প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ। ভোট গ্রহণ আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। তারেক রহমান বগুড়া–৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসনে বিজয়ী হন। এর মধ্যে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে বিএনপি বগুড়া-৬ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে জয়ী হন। ২০১৮ সালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
