ময়মনসিংহে জামায়াত সম্মেলনে নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ, মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য
ময়মনসিংহে জামায়াত সম্মেলনে নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগ

ময়মনসিংহে জামায়াত সম্মেলনে নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তীব্র অভিযোগ

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ময়মনসিংহে এক সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোট গণনা ও ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দাবি

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অন্যবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, সহিংসতা বা বড় ঘটনা না থাকলেও নির্বাচনের পরে ভোট গণনা, ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, জামায়াতকে অনেক সংসদীয় আসনে এক-দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারানো হয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা ৫০-এর বেশি হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আমরা আবেদন করেছি। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালেও আমরা অভিযোগ নিয়ে যাব। ভোটের পুনর্গণনা ও অনিয়মের নিরপক্ষে তদন্ত করে আদালতের শরণাপন্ন হব।’

নির্বাচন কমিশনকে সংশয় দূর করার আহ্বান

নির্বাচন কমিশনকে কিছু সংশয় দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোট শেষ হওয়ার আগেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া—এসব অনিয়মের কারণে রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা বা কাটাছেঁড়ার সংশয় তৈরি হয়েছে।’ তিনি নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ তদন্ত ও ব্যালট পুনর্গণনার মাধ্যমে সত্য উন্মোচনের আহ্বান জানান।

গণজোয়ার ও ফলাফল বন্ধের অভিযোগ

জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়েছিল, কিন্তু ভোট গণনা শুরু হলে বিজয়ের খবর আসতে থাকলেও রাত নয়টার পরে মিডিয়ায় ফলাফল বন্ধ করে দেওয়া হলো।’ এতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

সরকারকে সহিংসতা বন্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান

সরকারকে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে বলে জামায়াতের এই নেতা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ১১–দলীয় জোট হিসেবে সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব। নির্বাচনের আগে ও পরে হামলা, মারামারি, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া বন্ধ করতে সরকারকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে যোগ করেন, ‘সরকারি দলের লোকেরা ফ্যামিলি কার্ড বা সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য হামলে পড়ছে। উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের ভূমিকা দলনিরপেক্ষ ও জনস্বার্থে হওয়া উচিত।’

সম্মেলনে অন্যান্য বক্তা

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে এই রুকন সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন, মতিউর রহমান আকন্দ এবং জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিম প্রমুখ।