সংবিধান সংস্কার গণভোটের ফলাফলে বড় সংশোধন, ভোট কমেছে ১০ লাখের বেশি
সংবিধান সংস্কার গণভোটের ফলাফলে বড় সংশোধন

সংবিধান সংস্কার গণভোটের ফলাফলে বড় সংশোধন

সংবিধান সংস্কার বা 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত তথ্যের আলোকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নতুন করে গেজেট প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত ফলাফলের তুলনায় 'হ্যাঁ' ও 'না' মিলিয়ে ভোটের সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি

গেজেটে প্রকাশিত সংশোধিত তথ্য

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ সংশোধনী তথ্য জানানো হয়েছে। গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫' এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম গেজেটের হিসাব অনুযায়ী 'হ্যাঁ' ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০, 'না' ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬। হ্যাঁ এবং না ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ ভোট। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬

সংশোধিত ফলাফলের বিশদ বিবরণ

সংশোধিত গেজেটের হিসাব অনুযায়ী গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের সংখ্যা এখন ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০, 'না' ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। হ্যাঁ এবং না ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ ভোট। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১

সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি 'হ্যাঁ' ভোট কমেছে। অন্যদিকে 'না' ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিল করা ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা

গণভোটের এই সংখ্যা কমার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, 'তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশন এরর ছিল; যার কারণে এই ভুল হয়। করণিক ভুল হতেই পারে; যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছে সেগুলো কারেকশন করে পরে যেগুলো দিয়েছে সে অনুযায়ী এগুলো ঠিক করা হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'মূল যে প্রতিপাদ্য... 'হ্যাঁ' এবং 'না' এর যে প্রতিপাদ্য 'হ্যাঁ' এর সংখ্যা বেশি সেটাতে কোনও বিচ্যুতি হয়নি।' গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবং সংশোধিত ফলাফল এখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।