জুলাই জাতীয় সনদ গণভোটের ফলাফলে বড় সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন (ইসি) 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি এর আলোকে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে, যা পূর্বে ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে। সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ জন, যা গণভোটের প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংশোধিত ভোটের সংখ্যা: হ্যাঁ ও না ভোটে উল্লেখযোগ্য হ্রাস
নতুন গেজেটের হিসেব অনুসারে, 'হ্যাঁ' ভোটের সংখ্যা আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬০ কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০। অন্যদিকে, 'না' ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৩ কমে সর্বশেষ সংখ্যা হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা গেজেটে বলা হয়েছিল, গণভোটে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ ভোটার 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছেন এবং ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ ভোটার 'না' ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধনী তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ইসির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫' এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
পূর্ববর্তী ও সংশোধিত ফলাফলের বিশদ তুলনা
প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, 'হ্যাঁ' এবং 'না' ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ জন ভোট, যা বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন।
সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, গণভোটে 'হ্যাঁ' এবং 'না' ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ জন ভোট, যা বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন।
সংশোধনের প্রভাব ও বিশ্লেষণ
সংশোধিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগের তুলনায় 'হ্যাঁ' ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি এবং 'না' ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। মজার বিষয় হলো, বৈধ ভোট কমলেও বাতিল করা ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে, যা গণভোটের ফলাফলে নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন এই সংশোধনীর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমেই এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে, যা এখন সংশোধিত ফলাফলের আলোকে পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে।
