নিয়ম লঙ্ঘন করে এনআইডি সংশোধন: মির্জাগঞ্জ নির্বাচন কর্মকর্তার দুই বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত
এনআইডি সংশোধনে অনিয়ম: নির্বাচন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত

নির্বাচন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত: এনআইডি সংশোধনে অনিয়ম প্রমাণিত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার দুই বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. সেলিম রেজা, যিনি মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালীর উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন (পূর্ববর্তী কার্যালয়: মঠবাড়ীয়া, পিরোজপুর), তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সার্ভারে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক এবং সংশ্লিষ্ট সনদ সংযুক্ত থাকা সত্ত্বেও, তিনি সেগুলো বিবেচনায় না নিয়ে এনআইডির তথ্য স্বেচ্ছায় পরিবর্তন করেন।

এই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, যার ফলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং-২১/২০২৫) রুজু করা হয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়, এবং পরবর্তীতে তিনি জবাব দেন ও ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন।

শুনানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যক্তিগত শুনানিতে, মো. সেলিম রেজা আনীত অভিযোগগুলি স্বীকার করে নেন। এরপর নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা একটি বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কর্তৃপক্ষ তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অভিযোগগুলি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সার্বিক বিবেচনায়, তাকে ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়। এই শাস্তির অংশ হিসেবে, পরবর্তী দুই বছরের জন্য একাদিক্রমে দুইটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিত করার আদেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বিভাগীয় মামলা নং-২১/২০২৫ নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও তাৎপর্য

এই ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের কঠোর নীতিমালা এবং জবাবদিহিতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন করলে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে, তা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে, এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও সতর্কবার্তা হিসেবে এটি গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে অনুরূপ অনিয়ম রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও তদন্ত প্রক্রিয়া চালু রাখার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে।