বরগুনায় নির্বাচনি সহিংসতায় পুড়ল ৪ দোকান, ক্ষতি ৩০ লাখ টাকা
বরগুনার আমতলী উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে, যারা নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় তিনটি দোকানে এবং হলদিয়া ইউনিয়নের জুলেখার স্লুইস সংলগ্ন এলাকায় একটি দোকানে দুর্বৃত্তরা পেট্রল দিয়ে আগুন দেয়। সোনাখালী ব্রিজ এলাকায় রাশিদুল আকনের মুদি-মনোহরি দোকান, আল আমিন ফার্মেসি এবং স্বপন দাশ সেলুন পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, হলদিয়া ইউনিয়নে লতিফ হাওলাদারের মুদি-মনোহরি ও কীটনাশক ওষুধের দোকানে আগুন দেওয়া হয়, যেখানে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ ছিল না। এতে তার ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ
দোকান মালিক রাশিদুল আকন বলেন, "জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ও আল আমিনসহ বেশ কয়েকজন ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাশির উদ্দিন ও তার সহযোগীরা আমাদের মারধর করে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তারই জের ধরে তারা দোকানে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।" লতিফ হাওলাদারও অনুরূপ অভিযোগ করেছেন, দুর্বৃত্তরা পেট্রল দিয়ে তার দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে।
বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাশির উদ্দিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। কে বা কারা দোকানে আগুন দিয়েছে তা আমি জানি না। রাশিদুল আকন ও আল আমিনের সঙ্গে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটা ঘটনা ঘটেছিল, তা ছিল পারিবারিক, রাজনৈতিক কোনো বিষয় ছিল না।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে, তা চিহ্নিত করা যায়নি। আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ক্ষতিগ্রস্তরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা নির্বাচনি সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা শান্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
