নির্বাচন কমিশনের বড় বদলি: ১১২ কর্মকর্তা একযোগে স্থানান্তরিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক অফিস আদেশে সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের ১১২ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বদলির আদেশ ও সময়সীমা
নির্বাচন কমিশনের জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসি সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আদেশে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১ মার্চের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ওই দিন বিকেলেই তিনি সরাসরি অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এটিই কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া সবচেয়ে বড় বদলির উদ্যোগ। সামনে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বড় নির্বাচনগুলো রয়েছে। মূলত সেই নির্বাচনগুলোর প্রস্তুতি হিসেবেই মাঠ পর্যায়ের এই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে।
এই বদলির আদেশ জারির দিনই ইসি সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের পাশে থাকার এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
বদলির প্রভাব ও তাৎপর্য
এই বদলি উদ্যোগটি নির্বাচন কমিশনের মাঠ প্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্থানান্তর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য একটি পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই বদলির প্রভাব স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
