১৬ বছর বয়সেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন নাগরিকরা, ইসির নতুন সিদ্ধান্ত
দেশের নাগরিকদের ১৬ বছর বয়স পূর্ণ হলে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইসির এনআইডি অনুবিভাগ এই বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
পরিপত্রে কী বলা হয়েছে?
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ (২০১৩ সালে সংশোধিত) এর ধারা ৫ এর আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবেদনের তারিখে যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে বা হবে, তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
ইসি সচিবের ব্যাখ্যা
এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ১৬ বছর বয়স হলেই জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে নাগরিকদের নিবন্ধন তথ্য নেবে নির্বাচন কমিশন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, বয়স ১৮ বছর হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন।
আখতার আহমেদ আরও উল্লেখ করেন, যাদের বয়স ১৬ বছর হয়েছে, তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। তাতে আমরা অগ্রিম কিছু তথ্য রাখতে পারব। এনআইডি পাবেন তারা।
এনআইডির প্রয়োজনীয়তা
এই বয়সিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, অনেক কাজে তাদের এনআইডি লাগে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন:
- যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যান
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা
- চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া
- ছোটখাটো নানা কাজ
তিনি বলেন, এতে এনআইডিটা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। এনআইডি না থাকায় শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আখতার আহমেদ।
নতুন নিয়ম কী?
ইসি সচিবের মতে, এখন থেকে যার বয়স ১৬ বছর হয়েছে, তিনিই নিবন্ধন আবেদন করতে পারবে। কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ধরে দেওয়া হয়নি। ভোটের বয়স ১৮ বছর হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, এজন্য ১৬ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সিরা এনআইডি পাবেন। এজন্য তারা ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ভোটার সংখ্যার সর্বশেষ তথ্য
ইসির সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপটি শিক্ষা, ব্যাংকিং ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তরুণদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
