বগুড়ায় সংরক্ষিত আসনে বিএনপির নারী নেত্রীদের মনোনয়ন প্রতিযোগিতা
বগুড়ায় সংরক্ষিত আসনে বিএনপি নারী নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

বগুড়ায় সংরক্ষিত আসনে বিএনপির নারী নেত্রীদের মনোনয়ন প্রতিযোগিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা না হলেও বগুড়া জেলার বিএনপির নারী নেত্রীরা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা দৌড়ঝাঁপ ও বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করছেন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১০ জন মনোনয়ন চাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও এখন পর্যন্ত ছয়জনের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে। সবাই দলের মনোনয়ন পেতে আশাবাদী।

মনোনয়ন প্রত্যাশী নেত্রীদের তালিকা

মনোনয়ন প্রত্যাশী নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লালয়া আরজুমান বানু, সাধারণ সম্পাদক নাজমা আকতার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিহার সুলতানা তিথি এবং শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কোহিনুর আক্তার। এদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ, তদবির ও আলোচনায় সুরাইয়া জেরিন রনি এগিয়ে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

প্রার্থীদের পটভূমি ও আশা

অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লালয়া আরজুমান বানু জানান, তিনি জাতীয় সংসদে আসন্ন সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এবং হাইকমান্ডে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বাবা অ্যাডভোকেট শাহ মো. মোজাম্মেল হক ১৯৭৮ সালে জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন। বাবার অনুপ্রেরণায় তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। তিনি বর্তমানে বগুড়া জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

নাজমা আকতার, বর্তমানে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, বলেন তিনি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে চান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছার ওপর এটি নির্ভর করছে। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সুরাইয়া জেরিন রনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি মনে করেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনজরে আছেন, তাই প্রার্থিতা পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরী ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাহস করে প্রথম মামলা করেন। তিনি আসন্ন সংরক্ষিত আসনে প্রার্থিতা চাইবেন এবং দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করেন।

নিহার সুলতানা তিথি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং ২০০৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি আশা করেন, হাইকমান্ড তার ভূমিকা পর্যালোচনা করে তাকে প্রার্থী করবেন।

কোহিনুর আকতার বলেন, তিনি মনোনয়ন চাইবেন এবং দল যোগ্যতা বিবেচনা করলে টিকিট পাবেন। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

দলের অবস্থান

বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি এবং বগুড়ার নারী প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। কে প্রার্থী হবেন, তা সম্পূর্ণরূপে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নেত্রীরা তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে ব্যস্ত রয়েছেন।