১৬ বছর বয়সেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন তরুণরা, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাও জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা ও কার্ড পাবেন। রবিবার নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দিয়েছে।
নতুন নিয়মের বিস্তারিত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন (সংশোধন, ২০১৩) আইন, ২০১০-এর ৫ ধারা অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবেদনের তারিখে যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এই নির্দেশনা জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শাখার মহাপরিচালক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এনআইডি কার্ডের ইতিহাস
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফটোসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুতির সময় নির্বাচন কমিশন প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্র চালু করে। শুরুতে শুধু ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকদের লেমিনেটেড এনআইডি কার্ড দেওয়া হতো। পরে ২০১৬ সালে স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ শুরু হয়।
জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্ব
জাতীয় পরিচয়পত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়:
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা
- পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ
- সিম কার্ড নিবন্ধন
- জমি সংক্রান্ত সেবা পাওয়া
নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম আগের চেয়ে দুই বছর আগেই এসব সুবিধা পেতে পারবে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও আইনগত প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে।
সুবিধা ও প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৬-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও তরুণরা এখন থেকে সহজেই বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাজে অংশ নিতে পারবে। বিশেষ করে:
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
- ব্যাংকিং সেবা ও আর্থিক লেনদেন
- মোবাইল ফোন ব্যবহার ও ইন্টারনেট সেবা
- সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রাপ্তি
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ তরুণদের নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
