সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন: বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন: দলগুলোর প্রস্তুতি ও প্রার্থী তালিকা

সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন: দ্রুত তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসাবে চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এটি আয়োজন করতে হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শিগগিরই আয়োজন করা হবে এবং ঈদুল ফিতরের আগেই এর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

আসন বণ্টন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতেই সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সাধারণ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় বিএনপি জোট ৩৫টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পেতে পারে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এনসিপিকে আরও একটি আসন ছাড় দেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, দল বা জোটগুলো তাদের নির্ধারিত আসনের জন্য একক নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়, যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। তবে প্রার্থী সংখ্যা বেশি হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়তে পারে।

বিএনপিতে অর্ধশতাধিক নেত্রীর তৎপরতা

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপির অর্ধশতাধিক নারী নেত্রী তৎপরতা শুরু করেছেন। দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বিগত দিনে রাজপথে সংগ্রাম করেছেন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন নেত্রীদের তালিকা করা হচ্ছে। আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগর। এছাড়াও কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন, কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত আসবে এবং যোগ্য ও ত্যাগী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জামায়াত ও এনসিপিতে প্রার্থী বাছাই

জামায়াতে ইসলামীতেও প্রকাশ্যে লবিং না থাকলেও দুই ডজনের বেশি নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনের জন্য আলোচনায় এসেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, সাবেক এমপি ডা. আমিনা বেগম রহমান, শাহান আরা বেগম, সাঈদা রুম্মান, মার্জিয়া বেগম, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার, আয়েশা সিদ্দিকা এবং ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, যোগ্য ও পরিশীলিত ধারার নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এনসিপির ভাগে একটি বা দুটি আসন মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মনিরা শারমিন, দিলাশানা পারুল, নাবিলা তাসনিদ এবং ডা. মাহমুদা মিতুসহ কমপক্ষে ৯ জন নেত্রী আলোচনায় রয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ত্যাগী ও যোগ্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আইনি কাঠামো

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে দল বা জোটওয়ারী সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হবে। আইন অনুযায়ী, শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যরাই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোটার হবেন এবং তারা শুধু নিজেদের দলের প্রাপ্ত আনুপাতিক আসনের জন্য ভোট দিতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।