জামায়াতের এজেন্ট হওয়ায় চাকরি হারালেন ইমাম, নেপথ্যে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম
জামায়াতের এজেন্ট হওয়ায় চাকরি হারালেন ইমাম, নেপথ্যে জাহাঙ্গীর আলম

জামায়াতের এজেন্ট হওয়ায় চাকরি হারালেন ইমাম, নেপথ্যে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইমাম ও খতিব আব্দুল আলিম ভূঁইয়াকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে হেসাখাল ইউনিয়নের খামারপাড়া মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদে, যেখানে তিনি ২০২১ সাল থেকে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি ওবায়েদ মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচনে জামায়াতের এজেন্ট হওয়ায় বিভিন্ন দিক থেকে চাপ আসায় ইমামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার ক্রমবিকাশ

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের নাঙ্গলকোট উপজেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার ইমাম আব্দুল আলিমকে মসজিদে যেতে নিষেধ করেন। ইমামের মতে, মসজিদে গেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তাকে সতর্ক করা হয়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে তাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইমাম আব্দুল আলিম জানান, তিনি মাত্র সাত হাজার টাকা বেতনে এই দায়িত্ব পালন করতেন এবং নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি হেসাখাল স্কুল কেন্দ্রে জামায়াতের পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অন্য একজন ইমামকে নামাজ পরিচালনার জন্য ঠিক করে দেন।

মসজিদ কমিটির বক্তব্য

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোজাফফর হোসেন সেলিম বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়ে তিনি ইমাম সাহেবকে না পেয়ে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তার ওপর আক্রমণ করা হয়। তিনি দাবি করেন যে জাহাঙ্গীর আলমের সিদ্ধান্তেই ইমামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি ওবায়েদ মজুমদারও স্বীকার করেন যে জাহাঙ্গীর আলম মসজিদের কোনো দায়িত্বে না থাকলেও ইমামকে চাকরিচ্যুত করতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে, বিশেষ করে মুসল্লিরা ইমামের চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এই ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইমাম আব্দুল আলিমের চাকরিচ্যুতি কেবল তার ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকারের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।