শুজন: তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ, অযোগ্য প্রার্থীদের বিষয়ে তদন্ত করেনি নির্বাচন কমিশন
শুশাশনের জন্য নাগরিক (শুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে তড়িঘড়ি করেছে। অযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো তদন্ত না করেই এই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গভীর রাতে গেজেট প্রকাশের অভিযোগ
বদিউল আলম মজুমদার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "নির্বাচন কমিশন কোনো তদন্ত পরিচালনা করেনি। বরং তারা গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর কমিশনের এখতিয়ার কার্যত শেষ হয়ে যায়। তারা বিষয়টি থেকে নিজেদের হাত ধুয়ে নিয়েছেন এবং এখন আর কিছু করার নেই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তা তদন্ত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল। "কমিশন তদন্ত করে প্রয়োজনে ফলাফল বাতিল করতে পারত। পুনর্নির্বাচনের আদেশ দেওয়ারও তাদের ক্ষমতা রয়েছে।"
গেজেট প্রকাশের আগে তদন্তের অনুরোধ
শুজন সম্পাদক জানান, গেজেট প্রকাশের আগে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে ঋণখেলাপি, ইউটিলিটি বিল খেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য অযোগ্যতার অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বলেন, "জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১এফ ধারা অনুযায়ী এখনও এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কমিশনের এ ধরনের অযোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করার ক্ষমতা আছে।"
তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও উল্লেখ করেন: "নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে প্রত্যয়ন দিতে হবে যে ভোটগ্রহণ অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে হয়েছে কিনা। এই প্রত্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
শুজন-এর তথ্য অনুযায়ী ঋণগ্রহীতার সংখ্যা
শুজন-এর তথ্য অনুসারে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতা। তাদের মধ্যে ৩৬ জন প্রার্থীর ঋণের পরিমাণ ৫ কোটি টাকারও বেশি।
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শুজন ত্রয়োদশ সংসদে নতুন নির্বাচিত সদস্যদের তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
