নির্বাচনে পরাজয়ের পরও হোছনেয়ারা বেগমের ব্যতিক্রমী ধন্যবাদ জানানো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে পরাজিত হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হোছনেয়ারা বেগম একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গতকাল সোমবার রাতে তিনি নিজ উদ্যোগে মাইকিং করে এলাকার ভোটারদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যা রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হোছনেয়ারা বেগমের ব্যক্তিগত পরিচয় ও নির্বাচনী প্রচারণা
হোছনেয়ারা বেগম জামালপুর শহরের ডাকপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা। এই নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। জামালপুর-৫ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যার মধ্যে হোছনেয়ারা বেগম মাত্র ২৪৫ ভোট পেয়েছেন। সোমবার রাতে তিনি জামালপুর পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ভোটারদের উদ্দেশে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভোটারদের উদ্দেশে হোছনেয়ারার বার্তা
শহরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও হোছনেয়ারা বেগম হতাশ না হয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেছেন। মাইকিংয়ের মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আপনারা যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আর যাঁরা ভোট দেননি, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল। আপনাদের রায় আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’ এ সময় তিনি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানান।
হোছনেয়ারা বেগমের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
হোছনেয়ারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়, মানুষের ভালোবাসাই আমার কাছে বড়। তাই আমি নিজেই রাস্তায় নেমে ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমি যে ভোট পেয়েছি, সেটাই আমার কাছে অনেক। বিশেষ করে প্রবাসী ভাইবোনদের ভোট পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে গর্বিত। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা দেননি, আমি তাঁদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকতে চাই।’
নির্বাচনী ফলাফল ও জামানত বাজেয়াপ্ত
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী (মামুন) ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০১ ভোট। নিয়ম অনুযায়ী, যে পরিমাণ ভোট পড়েছে, তার আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে ক্ষেত্রে হোছনেয়ারা বেগমসহ বাকি সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীর মূল্যায়ন
জামালপুরের মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, হোছনেয়ারার এমন উদ্যোগে এলাকায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক সৌজন্য ও পরিপক্বতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হেরে যাওয়ার পরও এভাবে ধন্যবাদ জানানো সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজয় এলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এই উদ্যোগে হোছনেয়ারা ভোটারদের কাছে আলাদা বার্তা পৌঁছে দিলেন।
