বরিশাল-৫ আসনে ২২ হাজার ভোট পেয়েও জামানত হারালেন ডা. মনীষা
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়েও জামানত হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পাঠানো ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জামানত রক্ষার শর্ত পূরণ হয়নি
নির্বাচনী নিয়মানুযায়ী, জামানত বাজেয়াপ্ত ঠেকাতে কোনো প্রার্থীকে মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের একভাগ বা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয়। বরিশাল-৫ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৭০। এ হিসাবে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ৩২ হাজার ৮০৯ ভোট। কিন্তু ডা. মনীষা চক্রবর্তী পেয়েছেন মাত্র ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট, যা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার ভোট কম।
ডা. মনীষার রাজনৈতিক প্রোফাইল
ডা. মনীষা চক্রবর্তী বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব হিসেবেও পরিচিত। নির্বাচনকালে তিনি শ্রমজীবীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন এবং তার আসনের জনসাধারণ নির্বাচনী ব্যয়ের টাকা জোগাড় করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের ফলাফল
বরিশাল-৫ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ডা. মনীষা ছাড়াও আরও তিন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির আখতার হোসেন ৯০৯ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এর আবদুল হান্নান সিকদার ৪৯৪ ভোট এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাকর্সবাদী) এর সাইদুর রহমান ৩০০ ভোট পেয়েছেন।
এ নির্বাচনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র, তবে জামানত হারানো প্রার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ডা. মনীষার মতো নেতা জামানত হারালেও তার ভোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা আসনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্দেশ করে।
