ঝালকাঠির দুই আসনে ১৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি জেলার দুইটি সংসদীয় আসনে মোট ১৪ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের তালিকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিমও রয়েছেন, যিনি মাত্র ৩ হাজার ১২৫ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন আইনের বিধান
নির্বাচন আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পান, তাহলে তার জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়। এই বিধানের আওতায় ঝালকাঠির দুই আসনের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।
ঝালকাঠি-২ আসনের বিস্তারিত ফলাফল
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি-২ (নলছিটি-ঝালকাঠি সদর) আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৪টি। এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ২৭ হাজার ৬৫৮ ভোট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ছয়জন প্রার্থী এই সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীদের তালিকা:
- ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফোরকান হোসেন – ১২৭ ভোট
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মাসুদ পারভেজ – ১০৫ ভোট
- স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুলদীন সরদার – ৭৭ ভোট
- গণঅধিকার পরিষদের মো. মাইনুল ইসলাম সাগর – ১২২ ভোট
- স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম – ৩ হাজার ১২৫ ভোট
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিরাজী – ২৪ হাজার ৫৪৩ ভোট
আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম, যিনি আমুরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, তিনি নিজ ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।
ঝালকাঠি-২ আসনে বিজয়ী প্রার্থী
এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, যিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এসএম নেয়ামুল করিম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫৫৬ ভোট। উভয় প্রার্থীই নির্ধারিত সীমার বেশি ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
ঝালকাঠি-১ আসনের পরিস্থিতি
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪টি বৈধ ভোট পড়েছে। এখানে জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ১৬ হাজার ১৩১ ভোট প্রয়োজন ছিল। আটজন প্রার্থী এই সীমার নিচে ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো প্রার্থীদের নাম:
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম – ৭ হাজার ৭৪৫ ভোট
- স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মইন আলম ফিরোজী – ৫৯৩ ভোট
- জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান খান – ৩২১ ভোট
- জনতার দলের মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার – ৬৩ ভোট
- জাতীয় পার্টি-জেপির মো. রুবেল হাওলাদার – ২ হাজার ৫৬২ ভোট
- গণঅধিকার পরিষদের মো. শাহাদাৎ হোসেন – ১৩২ ভোট
- স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাবির আহমেদ – ৩৪৬ ভোট
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মো. সোহরাব হোসেন – ১১০ ভোট
ঝালকাঠি-১ আসনে বিজয়ী
এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল, যিনি ৬২ হাজার ১০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১২০ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে প্রতিষ্ঠিত নেতাদের চেয়ে নতুন প্রার্থীরা বেশি ভোট পেয়েছেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সেলিমের উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
