টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি: জাল ভোটের তথ্য খণ্ডিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি বক্তব্য ফটোকার্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হচ্ছে যে, টিআইবি জানিয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। তবে টিআইবি স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের তথ্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং এটি সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও টিআইবির পর্যবেক্ষণ
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ভোটের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা। টিআইবি ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে তারা মোট ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসন নমুনা হিসেবে নির্বাচন করে গবেষণা চালায়।
ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
টিআইবির সংবাদ সম্মেলনের পর ফেসবুকে বিভিন্ন ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যাতে লেখা হয়—‘টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য: জাল ভোট ২১.৪%’। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ হাসিনার উপ প্রেস সচিবের দায়িত্বপালনকারী আশরাফুল আলম খোকনও একই দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তাদের পোস্টে বলা হয়, টিআইবির রিপোর্ট অনুযায়ী নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়া হয় ২১.৪ শতাংশ এবং ভোটের আগেই বক্সে সিল মারা ব্যালট ভরে রাখা হয়েছে ১৩.৪ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৪.৮ শতাংশ ভুয়া ভোট।
টিআইবির স্পষ্টীকরণ ও বিবৃতি
টিআইবি তাদের ওয়েবসাইটে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সতর্ক করে বলেছে, তাদের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টিআইবির মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট প্রদানের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্যকে পুরো নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে—এমনভাবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ ভুল, ভিত্তিহীন ও অমূলক।
টিআইবি যেসব সংবাদমাধ্যম এই তথ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেছে, তাদের যথাযথ সংশোধনী প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। নইলে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মিডিয়া প্রতিবেদন ও সত্যতা
জাতীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৭০টি আসনের মধ্যে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটি সার্বিকভাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোটের কথা বলে না। বরং এটি একটি নমুনাভিত্তিক গবেষণার ফলাফল, যা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে প্রচার করা হচ্ছে।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যের অপব্যবহার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে টিআইবির মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনকে বিকৃত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে।
