বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়লেন, নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন
তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়লেন, নির্বাচন কমিশনে চিঠি

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়লেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়া বগুড়া-৬ আসনটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আকতার আহমেদ সোমবার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

আকতার আহমেদ বলেছেন, “আমরা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে বগুড়া-৬ আসন ত্যাগের চিঠি পেয়েছি। এখন গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসনটি শূন্য ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে।” জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯(১)(খ) ধারা অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসনে নির্বাচন করতে পারেন। ১৯(২) ধারা মোতাবেক, যদি কোনো প্রার্থী একাধিক আসনে জয়ী হন, তাহলে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তাকে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে কোন আসনটি তিনি রাখবেন। যদি কোনো পছন্দ জানানো না হয়, তবে নির্বাচন কমিশন একটি আসন রেখে বাকিগুলো শূন্য ঘোষণা করতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামানকে পরাজিত করেন, যিনি ৬৮,৩০০ ভোট পেয়েছিলেন। এতে ভোটের ব্যবধান ছিল ৪,৩৯৯। অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনে তিনি ২১৬,২৮৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলকে পরাজিত করেন, যিনি ৯৭,৬২৬ ভোট পেয়েছিলেন।

উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া

আরপিও বিধি অনুসারে, যদি কোনো আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। ফলস্বরূপ, নির্বাচন কমিশন শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন পরিচালনা করবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত ছিল এবং এখন সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী এটি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশল এবং আসন বণ্টনের বিষয়টি সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন এখন দ্রুত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে, যার পর উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।