বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৩০৯ ভোট, অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪২ ভোট।
উন্নয়ন কাজে সুনাম সত্ত্বেও পরাজয়
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই তিনি বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় আলোচিত হয়েছিলেন।
স্থানীয় উন্নয়নে অবদান
তিনি মিরগঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ, মসজিদ, ঈদগাহ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ এবং এতিমখানা উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্থা থেকে বরাদ্দ আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার, নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং বন্যায় বাঁধ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়াও জেলা পরিষদ থেকে বাবুগঞ্জ-মুলাদী এবং বরিশাল প্রেস ক্লাব রিপোর্টার্স ইউনিট উন্নয়নে বরাদ্দ তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
সোমবার বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর, বাহেরচর, রাজগুরু এবং ক্ষুদ্রকাটি এলাকা ঘুরে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রফিকুল ইসলাম, শহীদ মোল্লা এবং হাজী সোবাহান বলেন, "আসাদুজ্জামান নির্বাচনের আগে আমাদের নদীভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করায় আমরা তাকে ঢালাওভাবে ভোট দিয়েছি।"
স্পষ্টবাদী বক্তব্যের স্বীকৃতি
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরেছেন। মোল্লারহাট এলাকার আবুল কাশেম বলেন, "বিগত ১৭ বছর একটি সরকার ক্ষমতায় থেকেও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়নি; কিন্তু ক্ষমতায় না থেকেও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আমাদের কথা চিন্তা করেছেন। তার সততা ও সরলতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "হিন্দুদের নিরাপত্তার কথাও আমরা আমলে নিয়ে ঈগল প্রতীকে ভোট দিয়েছি এবারের নির্বাচনে।"
ফলাফল বিশ্লেষণ
দুই উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ঈগল প্রতীক জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও হেরে যাওয়ার পর এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক সুনাম থাকা সত্ত্বেও ভোটের ফলাফলে পিছিয়ে থাকার ঘটনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের পরাজয়ের পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রাজনৈতিক জোটের শক্তি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংগঠন এবং ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল বরিশাল-৩ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
