চট্টগ্রামে বিএনপির শক্তিশালী উপস্থিতি, নির্বাচনে ১২ আসনে জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপির প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। চট্টগ্রামের ১৪টি আসনে প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা, যা দলের জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন প্রায় ৩১ শতাংশ ভোট। মোট ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ১২টি আসনে জয়লাভ করেছেন, জামায়াতের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন মাত্র দুটি আসনে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহর জয়
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। এই আসনে ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের পেয়েছেন সাড়ে ২০ শতাংশ ভোট।
বিজয়ী প্রার্থীদের ভোটের বিশ্লেষণ
বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহর পর সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়েছেন, যা আসনটিতে প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৬৭ শতাংশ। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন:
- মোহাম্মদ এনামুল হক (চট্টগ্রাম-১২, পটিয়া): ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট (প্রায় ৭০%)
- গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬, রাউজান): ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট (৬৭.৩০%)
- মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৯, কোতোয়ালি-বাকলিয়া): ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট
- সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০, হালিশহর-ডবলমুরিং): ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট
- আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১১, বন্দর–পতেঙ্গা): ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯১ ভোট
এই তিনজন নগরের আসনে ৫৬ থেকে ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যান্য আসনের ফলাফল
বিএনপির অন্যান্য বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৩৭ ভোট, এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুমাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট। এছাড়াও, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২ ভোট এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে জসীম উদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। এই প্রার্থীরা প্রদত্ত ভোটের ৪১ থেকে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
জামায়াতের বিজয় ও স্থগিত ফলাফল
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জয়লাভ করেছেন। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ১০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর বিপক্ষে, যিনি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বখতেয়ার উদ্দিন এর মতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপির ধারাবাহিক ভালো ফল করার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখান থেকে নির্বাচন করেছিলেন, যা দলের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। ক্ষমতায় থাকার সময় চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দলটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়া, দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে চট্টগ্রামের অনেক নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকার কারণে দলের সাংগঠনিক অবস্থান ভালো রয়েছে, যা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
