মাদারীপুর-১ আসনে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর তীব্র প্রতিবাদ
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' করে ১১–দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলার শিবরায়েরকান্দি এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের দাবি করেন।
নির্বাচনী ফলাফল ও ভোটের ব্যবধান
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিজয়ী হয়েছেন। তিনি সরাসরি ভোটে ৬৩ হাজার ৫১১টি এবং পোস্টাল ব্যালটে ১ হাজার ৩৯৮টি ভোট পেয়ে মোট ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার সরাসরি ভোটে ৬৪ হাজার ২৯১টি এবং পোস্টাল ব্যালটে ২৩৩টি ভোট পেয়ে মোট ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট পান। পোস্টাল ব্যালটের ভোটে এগিয়ে থেকে হানজালা মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
কামাল জামান মোল্লার বিস্তারিত অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে কামাল জামান মোল্লা বলেন, 'শিবচরের জনগণ ওয়াদা করে আমাকে বিজয়ী করতে এক লাখের বেশি ভোট দিয়েছেন। আমি ভোটারদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের দেওয়া মূল্যবান ভোট আমি রক্ষা করতে পারিনি। আমি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিকার হয়েছি। আমার সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অন্যায় করা হয়েছে। ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। ভোটের দিন আমার কর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছে, যা আমার নেতাকর্মীসহ ভোটাররা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। বিকাল ৩টার পরে প্রশাসন কোনও কেন্দ্রে আমার কোনও লোককে দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয় নাই। অন্যায়ভাবে লাঠিপেটা করে দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছে। এর কারণটা কী?'
তিনি আরও দাবি করেন, বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে জামায়াতের মনোনীত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছিলেন, যারা জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত এবং অধিকাংশই মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন না। তিনি বলেন, 'এই নীলনকশাটা ছিল গভীর। নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা প্রশাসন নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১১–দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। আমি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছি। যারা ষড়যন্ত্র করে আমাকে পরাজিত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনগণের দরবারে বিচার দিয়ে রাখলাম। আল্লাহ তাদের বিচার করবেন।'
সমর্থকদের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক পটভূমি
এ সময় শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন ও বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক সাজাহান মোল্লাসহ অনেক কর্মী–সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা কামাল জামান মোল্লার অভিযোগকে জোরদার করে।
মাদারীপুর-১ আসনে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লাকে প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরে মনোনয়ন না পেয়ে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করলে তার মনোনয়ন স্থগিত করে দ্বিতীয় দফায় জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই রাজনৈতিক পটভূমি নির্বাচনী উত্তেজনা ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
