৪৭ বছর পর সিলেট-৬ আসনে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনটি পুনরুদ্ধার করেছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ১১দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ভোটের ফলাফল ও ব্যবধান
এমরান আহমদ চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬১২টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতা ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮টি ভোট। এই হিসাবে বিএনপির প্রার্থী ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
৪৭ বছরের ইতিহাস ও পুনরুদ্ধার
এই আসনে বিএনপির শেষ বিজয় ছিল ১৯৭৯ সালে। তখন জেলা বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রয়াত লুৎফর রহমান এই আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও ধারাবাহিক পরাজয় ঘটে বিএনপির।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লুৎফর রহমান নির্বাচিত হন
- ১৯৯১ সালে বিএনপি পরাজিত হয়, জাতীয় পার্টির শরফ উদ্দিন খছরু বিজয়ী হন
- ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ বিজয়ী হন
- ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া নির্বাচিত হন
- ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও বিএনপির পরাজয় ঘটে
প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল বিএনপি, ১১দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোলাপগঞ্জ বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহিউসসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস বলেন, "এই নির্বাচনে বিএনপির বিজয় একটি ঐতিহাসিক বিজয়। বিগত ৪৭ বছর এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একতাবদ্ধ থাকা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং নিঃস্বার্থ ভালবাসা থাকার কারণে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় সম্ভব হয়েছে।"
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের সেলিম জানান, "১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান জয়লাভ করেছিলেন। এরপর আর কখনো বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে আবার বিএনপি এই আসন পুনরুদ্ধার করল।"
এই বিজয় বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে দলের অবস্থান পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পর আসনটি ফিরে পাওয়াকে দলীয় নেতারা ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
