নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ: পঞ্চগড়ে এনসিপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার দাবি
পঞ্চগড়ে নির্বাচন-পর সহিংসতা: এনসিপির হামলা অভিযোগ

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে উত্তাল পঞ্চগড়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পঞ্চগড় জেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পরাজিত প্রার্থী সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে ৩০টির বেশি স্থানে দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনার পেছনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়িত।

স্থানীয়দের বর্ণনায় হামলার চিত্র

সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলে পঞ্চগড়ের সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনার খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার এনসিপির নারী শক্তির নেত্রী সুচনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বাইরের দরজা আর জানালায় ধাক্কা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে প্রতিবেশী দাদা নুর আলম ওরফে সলিম উদ্দিন আমার গায়ে হাত দিয়ে একটা বাড়ি দেন। এখনো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ একই এলাকার ইজিবাইকচালক স্বপন রানার বাড়িতেও হামলার দাবি উঠেছে। ভোট গণনার দিন মিছিলের সময় শাপলা কলি প্রতীকের কর্মী স্বপন রানার বাড়ির দরজা ও জানালায় ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বিএনপির পাল্টা বক্তব্য

বিএনপি পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আটোয়ারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম (দুলাল) বলেন, ‘আটোয়ারীতে এনসিপির কোনো নেতা-কর্মীর ওপর, তাঁদের বাড়িঘরে ও দোকানে হামলার ঘটনা ঘটেনি। দুইটা ছয়-সাত বছরের বাচ্চার ঝগড়াকে বড় করে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।’ তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এনসিপির লোকজনের হামলায় বিএনপির একজন নেতা আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে বড় ধরনের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘এগুলো বেশির ভাগই গ্রামের ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটির মতো। এসব ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি।’

রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

সারজিস আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। এখনো কারও দোকান বন্ধ রাখা, দেখে নেওয়াসহ নানা প্রকার হুমকি অব্যাহত আছে।’ তিনি বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নওশাদ জমির ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে আইনগত প্রক্রিয়ার হুমকিও দিয়েছেন। অন্যদিকে, নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট নওফল আরশাদ জমির পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীদের স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হয়ে এসে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতিতে প্রবেশ করছি।’ তিনি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন।

এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।