বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, সমর্থকদের উল্লাস
বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন

বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পথে

২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর আবারও ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি।

রিকশাচালক আনোয়ার পাগলার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

নির্বাচনের পরদিন ঢাকার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে রিকশাচালক আনোয়ার পাগলা জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা লাগানো রিকশা নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘লোকে আমাকে পাগল বলে। কারণ, আমি মনে করি, এই দলই আমার জীবনের সবকিছু। তবে তাতে কিছু যায়–আসে না। আমরা জিতেছি এবং বাংলাদেশ এখন আরও ভালো হবে।’ তাঁর এই উক্তি দলের একনিষ্ঠ সমর্থকদের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরদিন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, তারেক রহমান নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার উপর জোর দেবেন।

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পটভূমি

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত হয়, যাতে প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারান। ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং এরপর থেকে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এই পটভূমিতেই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ

জামায়াতে ইসলামী ভোট গণনায় অসংগতি ও কারচুপির অভিযোগ তুললেও শনিবার নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে দলের কার্যালয়ের পাশে সমর্থক আবদুস সালাম দাবি করেন, ‘ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় কৌশল প্রয়োগ হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যম পক্ষপাত করেছে।’ জার্মানিতে বসবাসকারী সমর্থক মুয়াজ আবদুল্লাহ দলের দুর্বল প্রচারণাকেই দায়ী করেন।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

বিএনপি কর্মী কামাল হোসেন নতুন সরকারের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভালো শাসন নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই মূল চ্যালেঞ্জ।’ আটলান্টিক কাউন্সিলের মাইকেল কুগেলম্যান বিএনপির জয়কে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে। পাকিস্তান জামায়াতের জয় পছন্দ করলেও ভারত বিএনপিকে অগ্রাধিকার দেয়। চীন উভয় দলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমর্থকদের বিজয় উদযাপন

বিজয়ের পর ঢাকা শহর শান্ত থাকলেও বিএনপি কার্যালয়ে সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে। দলের নেতা শামসুদ দোহা তাঁর নাতি-নাতনিদের নিয়ে এসে বলেন, ‘এ অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করার মতো কিছু নেই। স্বৈরশাসনের অধীন আমরা দীর্ঘদিন ভুগেছি। এখন আমাদের দেশ গঠনের সময়।’ এই বিজয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।