জামায়াতে ইসলামীর ৩০ আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অবহেলার দাবি
জামায়াতের ৩০ আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ

জামায়াতে ইসলামীর ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অবহেলার দাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের এই অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন অভিযোগ আমলে না নিয়ে ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত।

ভোট গণনায় অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জালিয়াতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন আসনে ভোট গণনায় অতিরিক্ত দেরি, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ, ভুয়া পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর, এমনকি পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে। এহসানুল মাহবুব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩০টি আসনে এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনা দেখেছি; যেখানে ভোট জালিয়াতি হয়েছে, কারচুপি হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ৩০ আসনে ভোট আবার গণনার জন্য তাঁরা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন, কিন্তু কমিশন কোনো সাড়া দেয়নি।

অভিযুক্ত আসনগুলোর তালিকা ও হামলার ঘটনা

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব আসনে দলটি অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে, সেগুলোতে ভোটের ব্যবধান ১ হাজার থেকে ১০ হাজার। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে:

  • পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫
  • লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩
  • সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫
  • বরগুনা-১ ও ২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২
  • ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-৩
  • ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১ ও ১৭, গোপালগঞ্জ-২
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪

এছাড়া, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে জামায়াত ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের ওপর বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা হামলা করছে বলেও অভিযোগ করেন এহসানুল মাহবুব। তিনি বলেন, ‘বিশেষত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় আমরা মারাত্মক ধরনের আক্রমণের শিকার হচ্ছি। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমাদের সমর্থক, প্রার্থীর এজেন্ট, ক্ষেত্রবিশেষে নারীদের ওপরও হামলা করা হচ্ছে। শতাধিক ঘটনা ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি।’

নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

ফ্যাসিবাদের পতনের পর এমন হামলা কাম্য নয় উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকবে।’ ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, অভিযোগ করা আসনগুলোতে জামায়াত ও ঐক্যে থাকা দলগুলো নিশ্চিত জয় পেত। তাই তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছেন। প্রতিকার না পেলে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

এ সময় ঢাকা-৬ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মান্নান অভিযোগ করেন, তাঁর আসনে কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল শিটে পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর দিয়ে ফলাফল তৈরি করা হয়। কোথাও পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখা হয়। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করা হলেও কমিশন কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করে বলেও অভিযোগ করেন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এই প্রার্থী।

এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র দলগুলোর পক্ষ থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।