শেরপুর-১ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী ফলাফল স্থগিতের দাবি
শেরপুর-১ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থীর দাবি

শেরপুর-১ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী ফলাফল স্থগিতের দাবি

শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা নির্বাচন কমিশনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত এবং পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রার্থীর অভিযোগের মূল বিষয়গুলো

ডা. প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষের ভোটের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতা বা 'ম্যানেজ' করেছে, যা ভোটের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

তিনি আরো বলেন, ভোটকেন্দ্রে অন্য দলের এজেন্টরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারলেও বিএনপির এজেন্টদের নানা উপায়ে হুমকি ও চাপের মুখে রাখা হয়েছে। এমনকি হিন্দু ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং একাধিক কেন্দ্রে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করা হয়েছে, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।

ভোটদান প্রক্রিয়ায় বাধা ও কৌশলগত সমস্যা

ডা. প্রিয়াঙ্কার দাবি, ভোটের দিন ইচ্ছা করে ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে ভোটদানের গতি কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের হার কম হয়। তিনি পুরো বিষয়টিকে একটি 'পরিকল্পিত কৌশল' হিসেবে অভিহিত করেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা বলে মনে করেন।

নির্বাচনের দিন এসব অভিযোগের বিষয়ে জানাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান ডা. প্রিয়াঙ্কা, যা দায়িত্বশীলতার অভাব নির্দেশ করে।

ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির ডা. প্রিয়াঙ্কা ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনের ঘটনাটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

ডা. প্রিয়াঙ্কার এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।