বিএনপি গ্রহণ না করলে শপথ নেবেন না চাঁদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি এম এ হান্নান
বিএনপি গ্রহণ না করলে শপথ নেবেন না এম এ হান্নান

বিএনপির আনুষ্ঠানিক গ্রহণ ছাড়া শপথ নেবেন না চাঁদপুর-৪ আসনের এম এ হান্নান

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এম এ হান্নান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তার প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রহণ না করে, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন না। শনিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

দলীয় আদর্শের প্রতি আজীবন অঙ্গীকার

এম এ হান্নান বলেন, ‘বিএনপি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবো না। দলীয় আদর্শ ও রাজনীতির প্রতি আমার আজীবনের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নানা বিষয় নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

দল থেকে বহিষ্কার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীত্ব

হান্নান দীর্ঘদিন ধরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, যার ফলে তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশিদকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থা ও জনসংযোগ

সংবাদ সম্মেলনে এম এ হান্নান আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কৃতজ্ঞতা জানানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা ও হৃদযন্ত্রে রিং বসানোর কারণে তাৎক্ষণিক গণসংযোগ করতে পারিনি বলে সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি দাবি করেন যে, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেননি, বরং একটি জনবিচ্ছিন্ন চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

সহিংসতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্কতা

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য পরাজিত পক্ষের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও অপপ্রচারে জড়িত হওয়ার অভিযোগ তুলেন। তিনি তার সমর্থক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেউ যেন অতি উৎসাহে এমন কোনো কাজ না করেন, যাতে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হয়। আইনভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে আমি জিরো টলারেন্স।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সফিউল আলম বাশার মুকুল পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, ডা. আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমানত গাজী, সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন।