কুমিল্লা-২ আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত, বিজয়ী বিএনপির সেলিম ভূইয়া
কুমিল্লা-২ আসনে ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বিজয়ী বিএনপি

কুমিল্লা-২ আসনে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বিএনপি প্রার্থীর বিজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের মধ্যে তিনজনই জামানত হারিয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র তিন প্রার্থীর মধ্যে, যেখানে বাকি প্রার্থীরা ন্যূনতম ভোটের সীমা অতিক্রম করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

ভোটগ্রহণের পরিসংখ্যান ও জামানতের শর্ত

নির্বাচন কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, এই আসনে মোট ১১০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হোমনা উপজেলার ৫৭টি কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ১,০৬,৯১০টি, যার মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ১,০৪,৫৩৫টি এবং বাতিল ভোট হয়েছে ২,৩৭৫টি। অন্যদিকে, তিতাস উপজেলার ৫৩টি কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট ৯৪,৩৪১টি, যেখানে বৈধ ভোট ৯২,০৪১টি এবং বাতিল ভোট ২,৩০০টি। দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৯৬,৫৭৬টি।

তিতাস উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা জান্নাত ইসলাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনি বিধি অনুসারে প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এই হিসাব অনুযায়ী, কুমিল্লা-২ আসনে ন্যূনতম ২৫,১৫৬টি ভোট না পেলে জামানত রক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফলাফল

দুই উপজেলার সম্মিলিত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া ৭৭,০৩৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী তালা প্রতীক আবদুল মতিন ৬৩,০৪৫টি ভোট পেয়েছেন। তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লা, যিনি ৫৩,৩৮৪টি ভোট পেয়েছেন।

তিতাস উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন, অন্যদিকে হোমনা উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।

জামানত হারানো প্রার্থীদের তালিকা

বিজয়ী প্রার্থী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ছাড়া বাকি তিন প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের সীমা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন:

  • জাতীয় পার্টির আমির হোসেন ভূইয়া (লাঙ্গল প্রতীক) – ৫৫৯টি ভোট
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম (হাতপাখা প্রতীক) – ৬,৮৬৮টি ভোট
  • ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম (চেয়ার প্রতীক) – ৭৬০টি ভোট

এই নির্বাচনে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবলমাত্র শীর্ষ তিন প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে অন্যান্য প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যথেষ্ট সমর্থন আদায় করতে পারেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ঘটনাপ্রবাহ কুমিল্লা-২ আসনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।