চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নির্বাচনী কারচুপির তীব্র অভিযোগ এলডিপি সভাপতির
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোট গ্রহণের সময় বিকেল ৪টার পর বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই গুরুতর অভিযোগটি উত্থাপন করেন। উল্লেখ্য, এই আসন থেকে তার ছেলে ওমর ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন, যেখানে আটজন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ততা ও কারচুপির ঘটনা
অলি আহমদ তার ভিডিও বার্তায় জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরিকল্পিতভাবে কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে হাশিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাশিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের মতো কেন্দ্রগুলোতে বিকেল সাড়ে ৪টার পর অপরিচিত কয়েক শ লোক প্রবেশ করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ঢুকিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলডিপি সভাপতি আরও অভিযোগ করেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একতরফাভাবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, 'আড়াইটা-তিনটার পর থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা যারা কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বরত ছিলেন, তাদেরকে পিটিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীদের মারপিট করা হয়েছে।' অন্যদিকে, বিজয়ী প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তোলেন যে তিনি ৬-৭টি মাইক্রো ও মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন এবং সন্ধ্যার আগে-পরে প্রায় ৩০-৪০টি মাইক্রোবাস ও ট্রাক নিয়ে মিছিল করে উপজেলা সদরে এসেছেন। অলি আহমদ প্রশ্ন তোলেন, 'এখানে আর্মি ক্যাম্প, পুলিশের ক্যাম্প ছিল, পুলিশের থানা ছিল, প্রশাসন ছিল; তাকে বারণ করে নাই।'
ভোট বাতিল ও নিরব প্রশাসন
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে, কিন্তু এজেন্টরা যখন এটি চ্যালেঞ্জ করেছেন, তখন বাতিলের কারণ ও পদ্ধতি দেখানো হয়নি। অলি আহমদ দাবি করেন, 'সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।' তিনি যোগ করেন, 'আপনারা যদি মনে করেন, প্রফেসর ওমর ফারুক পরাজিত হয়েছে, ড. কর্নেল অলি আহমদ পরাজিত হয়েছে, আমরা পরাজিত হই নাই। আল্লাহর মেহেরবানি, আমার নবীর দয়া মুক্তিযোদ্ধা কখনো পরাজিত হয় না, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কখনো পরাজিত হয় না। পরাজিত হয়েছে টাকা এবং আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু লোক।'
উচ্ছৃঙ্খলতা ও প্রশাসনের ভূমিকা
ভিডিও বার্তায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা তাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে এবং প্রশাসন এই বিষয়ে নিরব রয়েছে। অলি আহমদ বলেন, 'প্রশাসনের উচিত দুদিন এখানে বসে প্রত্যেকটা জায়গায় টহল দেওয়া এবং দেখা কোনো জায়গা সমস্যা হচ্ছে কি না। তারা এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।' এই অভিযোগগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
