কুমিল্লা-৯ আসনে ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বিএনপির আবুল কালাম বিজয়ী
কুমিল্লা-৯ আসনে ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

কুমিল্লা-৯ আসনে ছয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বিএনপির আবুল কালাম বিজয়ী

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় ও গণভোট নির্বাচনে এই প্রার্থীরা প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীদের তালিকা

নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। কুমিল্লা-৯ আসনে জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন:

  • বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ছড়ি প্রতীক) - ১২৪ ভোট
  • স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাশেম (হাঁস প্রতীক) - ৩৩৩ ভোট
  • বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা (ফুটবল প্রতীক) - ৩৬৪ ভোট
  • জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল প্রতীক) - ১,১৯৯ ভোট
  • ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবু বাকার সিদ্দিক (চেয়ার প্রতীক) - ৩,৮৯৫ ভোট
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সেলিম মাহমুদ (হাতপাখা প্রতীক) - ৭,৪৫৯ ভোট

এই ছয় প্রার্থীই ২৯,৭৪৯ ভোটের ন্যূনতম সীমা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও বিজয়ী প্রার্থী

কুমিল্লা-৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৬৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৬৯ জন। লাকসাম উপজেলায় একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন।

দুই উপজেলার ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রের ৯৬৪টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩ লাখ ৩ হাজার ২০৮ জন ভোটার ভোট দিলে ৮,৫০৫টি ভোট বাতিল হয়। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯১৬টি।

লাকসামে ভোট প্রদানের হার ছিল ৬৬.৬২ শতাংশ এবং মনোহরগঞ্জে ৬২.৯৮ শতাংশ।

বিজয়ী প্রার্থী: বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম (ধানের শীষ প্রতীক) ১ লাখ ৬৮ হাজার ১০৮ ভোট পেয়ে এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. এ কে এম সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৪ ভোট। ফলে আবুল কালাম ৫৪ হাজার ৬৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

নির্বাচনী বিধি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী বিধি অনুসারে প্রত্যেক প্রার্থীকে প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট পেতে হয়। এই শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই নিয়ম সকল প্রার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেখানে একটি আসনেই ছয় প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীর বিজয় এই আসনে দলের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।