রাজশাহী-১ আসনে ভোট গণনা পুনরায় করার দাবি তুললেন বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দীন
রাজশাহী-১ আসনে ভোট গণনা পুনরায় করার দাবি

রাজশাহী-১ আসনে ভোট গণনা পুনরায় করার দাবি তুললেন বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দীন

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পুনরায় ভোট গণনার জন্য আবেদন করেছেন বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দীন। গতকাল শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।

ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ

শরীফ উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, 'আপনাদের মূল্যবান ভোটের গণনায় কিছু অনিয়মের বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আমরা পুনরায় ভোট গণনার জন্য আপিল করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সত্য কখনো হার মানে না। আইনের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে এবং যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।' তিনি আরও জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং এর অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও পাঠানো হয়েছে।

ভোট ব্যবধান ও বাতিল ভোটের পরিসংখ্যান

প্রার্থী শরীফ উদ্দীনের মতে, সাধারণ ভোটে ব্যবধান প্রায় ৭০০ ভোট। পোস্টাল ব্যালট মিলিয়ে ব্যবধানের চিত্র আলাদা হলেও মূল গণনায় পার্থক্য কম বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া, ভোট বাতিল হয়েছে সাত হাজারের বেশি, যা মোট ভোটের প্রায় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব বাতিল ভোট যথাযথভাবে বাতিল হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা দরকার।

পোলিং এজেন্টের সই সংক্রান্ত অভিযোগ

শরীফ উদ্দীন আরও অভিযোগ করেন যে কিছু কেন্দ্রের ফলাফলে পোলিং এজেন্টের সই ছাড়া ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, 'যেখানে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন, সেখানে সই ছাড়া কীভাবে ফল প্রকাশিত হলো, সেটা দেখতে চান তিনি। উপস্থিত না থাকলে সেটি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।' এই বিষয়গুলো নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আসনের নির্বাচনী ফলাফল

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ হাজার ৮৮৪ ভোট। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি, যার মধ্যে ভোট বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ৯৮৬টি।

শরীফ উদ্দীনের এই আবেদন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।