গহিরা গ্রামের তিন কৃতি সন্তানের নির্বাচনী বিজয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়লাভ করেছেন রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের তিন কৃতি সন্তান। তারা সকলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দের বন্যা
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই গহিরা গ্রামে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। এই তিন সাংসদ হলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে তাদের বিজয়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গ্রামবাসীরা এই সাফল্যকে তাদের গৌরব হিসেবে পালন করছেন।
বিস্তারিত নির্বাচনী ফলাফল
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তিনি মোট ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। এছাড়া এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু ২২ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে পাশের আসন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। চাচা-ভাতিজার এই যুগপৎ বিজয় গহিরা গ্রামের মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম, যিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়েছেন।
শহরের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনেও ধানের শীষের জয়জয়কার হয়েছে। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গহিরা গ্রামের আরেক সন্তান সাঈদ আল নোমান। তিনি বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে এবং বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই তিন সাংসদের বিজয় শুধুমাত্র গহিরা গ্রামের জন্যই নয়, বরং সমগ্র চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিএনপির জন্য এই সাফল্য দলীয় শক্তি বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রামবাসীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের প্রতিনিধিরা সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। নির্বাচন পরবর্তী এই আনন্দোৎসব এখনও চলমান রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
