ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশন অনুমোদন দেওয়ার পর সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনের ফলাফল ও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া
এবারের নির্বাচন ২৯৯ আসনে অনুষ্ঠিত হলেও গেজেট হয়েছে ২৯৭ আসনের। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল পরে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে শেরপুর-৩ আসনে। ইসি সচিব জানান, বেসরকারি ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম ও পরিচয় সম্বলিত অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শুরু করেছে। বৈঠকে শপথের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফলভাবে করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয় অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে সব পরিকল্পনা।
নির্বাচনের পরিসংখ্যান ও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। এ হার ২৯৭ আসনের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে। আর গণভোটে প্রদত্ত ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ। ২৯৯ আসনের গণভোটের তথ্য একীভূত ফলাফলে এ হার।
দলীয় ফলাফল ও আসন বণ্টন
ইসির তথ্যানুসারে, বিএনপি সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৭৭টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৭টি আসন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল বাকি আসনগুলো লাভ করেছে। এই ফলাফল নির্বাচনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও দলীয় শক্তির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
